হারাম রিলেশন

 রিলেশনশিপের আক্ষরিক অর্থ দূষণীয় না হলেও যে অর্থে রিলেশনশিপ সস্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সে অর্থে দূষণীয়। পর্দার ফরজ বিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেগানা নারী-পুরুষ একে অপরের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করাই হচ্ছে রিলেশনশিপ। বর্তমানে এমন রিলেশনশিপ করতে পারা যেন একটা স্মার্টনেস৷ এই স্মার্টনেসের ট্রেন্ডে গা ভাসাতে না পারলে যেন জীবনের একটি অপ্রাপ্তি থেকে যায়। অথচ এটি এমন একটি বিষয়, যে বিষয় রবের চরম অবাধ্যতায় ভরপুর। যে রবের নিয়ামতের মধ্যে প্রতিনিয়ত থাকা হচ্ছে, যে রবের হাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেই রবের চরম অসন্তুষ্টির জন্য এমন একটি বিষয়-ই যথেষ্ট। আফসোস, রবের অসন্তুষ্টির বিষয় থোড়াই কেয়ার করা হয়।


ইংরেজিতে ‘I am in a relationship’ বলতে যতোটানা মন্দ শুনায় না সহজ বাংলায় সেটা বললে রিলেশনশিপের পক্ষের মানুষেরা হয়তো নাক সিটকিয়ে পালাতে চাইবেন। কারণ এর আসল অর্থটাই যে তাদের অনুকূলে নয়। যেহেতু ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত বেগানা ছেলে-মেয়ের সম্পর্ক যিনার অন্তর্ভুক্ত সেহেতু এখানে ‘I am in a relationship’ এর সহজ বাংলা হচ্ছে, আমি অমুকের সাথে যিনায় লিপ্ত আছি। আস্তাগফিরুল্লাহ! কত্তো বড়ো পাপের কথা, ভাবা যায়!


আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আমরা অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় 'I am in an open relationship' স্ট্যাটাস দিয়ে ফলাও করে প্রচার করে থাকি। আর প্রকাশ্যে এরকম চরম বেহায়াপনা স্ট্যাটাস দিয়ে মূলত এটা বোঝানো হয় যে, হে লোক সকল! তোমরা সবাই জেনে রাখো, আমি অমুকের সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক করে ওপেনলি যিনায় লিপ্ত আছি। অথচ আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন, তোমরা যিনার ধারে কাছেও যেও না। এটা অবশ্যই অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। [১]


আসলে একজন মানুষ কতোটা শরম হারা হলে, নিজের আত্নমর্যাদাবোধ কতোটা নিচে চলে গেলে, সর্বোপরি গোনাহের ফিলিংস থেকে সে কতোটা দূরে থাকলে তার পাপকে এভাবে এতো অনায়েসে প্রকাশ্যে বলে বেড়াতে পারে, প্রকাশ্য বলে বেড়ানোতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারে, তা কি ভাবা যায়?


সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব প্রচারের মাধ্যমে মূলত পাপকে প্রকাশ করা হচ্ছে, পাপকে সবার সামনে নরমালাইজ করা হচ্ছে যা আরেকটি ভয়ঙ্কর পাপ। পাপ প্রকাশ করা নিয়ে একটি হাদীস শুনলে রীতিমতো গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠার কথা। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আমার সকল উম্মত মাফ পাবে তবে পাপ প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয় এ বড়োই অন্যায় যে, কোনো লোক রাতের বেলা অপরাধ করলো যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে সকাল হলে বলে বেড়াতে লাগলো, হে অমুক! আমি আজ রাতে এই এই কাজ করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত কাটালো যে, আল্লাহ তার কর্ম লুকিয়ে রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহর দেয়া আবরণ খুলে ফেললো। [২]


অর্থাৎ এই হাদীস বলছে, পাপ করা সত্ত্বেও আল্লাহ তা'য়ালা তার ফেরেশতা পাঠিয়ে কারো সাথে আপনার পাপ শেয়ার করছেন না, আপনার পাপের আবরণ খুলে দিচ্ছেন না। এই সুযোগে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে আপনার পাপের মিটমাট করে ফেলা উচিত ছিল। অথচ আপনি কিনা তা না করে নিজেই পাপ নিজেই অনায়াসে প্রকাশ করে দিলেন। আর কারো সামনে পাপিষ্ট কর্মকান্ড প্রকাশ করার মানে হচ্ছে, পাপকে পাপ মনে না করা, পাপের প্রতি অনুতপ্ত না থাকা, লজ্জিত না থাকা। আর এগুলো এক ধরনের অহংকার বটে। এই কারণে আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর চরম অসন্তুষ্ট থাকেন। আপনার যেকোনো পাপ আপনি এবং আল্লাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সেটা কখনোই কারো কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। অন্যথায়, আল্লাহ পাপকারীকে কক্ষনোই ক্ষমা করবেন না।


রেফারেন্সঃ


[১] সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত নং : ৩২

[২] সহীহুল বুখারী, হাদীস নং : ৬০৬৯; মুসলিম, হাদীস নং : ২৯৯০


'I am in a relationship' নামক প্রবন্ধ থেকে একটুখানি।

লেখা : রাকিব আলী 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জীবন থেকে পাওয়া ২০ টি শিক্ষা