পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হারাম রিলেশন

 রিলেশনশিপের আক্ষরিক অর্থ দূষণীয় না হলেও যে অর্থে রিলেশনশিপ সস্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সে অর্থে দূষণীয়। পর্দার ফরজ বিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেগানা নারী-পুরুষ একে অপরের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করাই হচ্ছে রিলেশনশিপ। বর্তমানে এমন রিলেশনশিপ করতে পারা যেন একটা স্মার্টনেস৷ এই স্মার্টনেসের ট্রেন্ডে গা ভাসাতে না পারলে যেন জীবনের একটি অপ্রাপ্তি থেকে যায়। অথচ এটি এমন একটি বিষয়, যে বিষয় রবের চরম অবাধ্যতায় ভরপুর। যে রবের নিয়ামতের মধ্যে প্রতিনিয়ত থাকা হচ্ছে, যে রবের হাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেই রবের চরম অসন্তুষ্টির জন্য এমন একটি বিষয়-ই যথেষ্ট। আফসোস, রবের অসন্তুষ্টির বিষয় থোড়াই কেয়ার করা হয়। ইংরেজিতে ‘I am in a relationship’ বলতে যতোটানা মন্দ শুনায় না সহজ বাংলায় সেটা বললে রিলেশনশিপের পক্ষের মানুষেরা হয়তো নাক সিটকিয়ে পালাতে চাইবেন। কারণ এর আসল অর্থটাই যে তাদের অনুকূলে নয়। যেহেতু ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত বেগানা ছেলে-মেয়ের সম্পর্ক যিনার অন্তর্ভুক্ত সেহেতু এখানে ‘I am in a relationship’ এর সহজ বাংলা হচ্ছে, আমি অমুকের সাথে যিনায় লিপ্ত আছি। আস্তাগফিরুল্লাহ! কত্তো বড়ো পাপের কথা, ভাবা যায়! আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছ...

জীবন থেকে পাওয়া ২০ টি শিক্ষা

 এবছর চল্লিশ হতে যাচ্ছি। এই চার দশকে শেখা ২০টা "মহাসত্য*" নীচে উল্লেখ করছি- ১) টাকাপয়সা প্রচন্ড দরকারী জিনিস। পুরুষ মানুষের পকেটে টাকা না থাকলে তার সাথে মানুষ রাস্তার কুকুরের চেয়েও খারাপ আচরণ করে।  ২) বেশিরভাগ মানুষ অকৃতজ্ঞ, স্বার্থপর, সুবিধাবাদী, সুযোগ সন্ধানী।  ৩) অধিকাংশ মানুষ অপরাধ করেনা সাহসের অভাবে। এভরিবডি ইজ আ পটেনশিয়াল ক্রিমিনাল। ৪) মানুষ কাজ থাকলে আপনারে পঞ্চাশ বার কল করবে, কাজ শেষ হবার পর কল করে এটুকুও জানাবেনা যে কাজটা হয়ে গেসে। ৫) কার্মা বলে কিছু নাই, সব বোগাস। সারাজীবন অন্যের হক মেরে, অন্যের উপর অত্যাচার করে বেঁচে থাকা মানুষের ছেলেমেয়েও বড় পজিশনে যায়, ভাল মানুষও হয়, সে নিজেও মরে পরম শান্তিতে, স্বাভাবিকভাবে। ৬) মানুষ প্রচন্ড দুর্বল প্রাণী। সবচেয়ে বড় গাধা সেই ব্যক্তি যে ভাবে লাইফ তার কনট্রোলে আছে, কারণ কনট্রোল পাল্টাইতে এক সেকেন্ডও লাগেনা। ৭) মানুষের জীবনের কোনো উদ্দেশ্য নাই আসলে। মৃত্যুকে ভুলে থাকা, দু:খময় এ জীবনকে নানারকম ছলাকলায় সাজিয়ে তোলাই তার উদ্দেশ্য। একেকজন এইটা একেক ভাবে করে। ৮) মানুষ খুবই নিকৃষ্ট প্রাণী। পশুপাখিরা মানুষের চাইতে অনেক বেশি মানবিক।...

কেউ সারাজীবন বন্ধু থাকে না

যেদিন নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবা দুজন বন্ধুর বিয়ের ব্যাপারে জানতে পেরেছিলাম তৃতীয় আরেকজনের মুখে। সেদিন থেকেই বন্ধু' শব্দটাকে ইগনোর করি! ইটস আ ডিসেপটিভ ওয়ার্ড! বন্ধু হিসেবে কাওকে গ্রান্টেড ধরতে নাই। জাস্ট সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলি! যেমন ধরেন কারো সাথে হঠাৎ দেখা হলো, খুব আপন মনে হলো। শুধু ঐ সময়ের জন্যই তাকে আপন ভাবি। এক্সপেক্ট করে বসে থাকি না যে সে ফরএভার আপন ই থাকবে! কারো সাথে চ্যাটবক্সে অসাধারণ টপিক নিয়ে আলোচনা হলো। অনেকদিন পর মনে হলো, যাক এতদিন পর একজনের সাথে মন খুলে কথা বললাম। কিন্তু এতটুকুই। আশা করে বসে থাকি না যে আগামীকালও সে আমার সাথে ঠিক এভাবেই কথা বলবে। আজকের মতই আগ্রহ দেখাবে, পাত্তা দিবে! হতেই পারে সে আজকে লেফট-অভার ফিল করছে। তাই নিজের স্বার্থেই আমার সাথে কথা বললো। হয়ত আগামীকাল আবারও সে বন্ধুদের মাঝে নিজেকে মধ্যমণি হিসেবে ফিরে পাবে। আমার টেক্সট-এর রিপ্লাই দিবে হুমমম' লিখে!লিভ ইন দা মোমেন্ট - ব্যাপারটাই আসল ব্যাপার। এই মুহূর্তে কেউ আমাকে পাত্তা দিচ্ছে, আই এ্যাপ্রিশিয়েইট ইট ফর নাউ! টাইম মুভস অন, পিপল চেইঞ্জ! পুনশ্চঃ হ্যা সবার এক্সপেরিয়ান্স আমার মত হবে না। স্বাভাবিক! অনেকেই ...

পাওয়ার অব পজিটিভ থিংকিং

 লাইবেরিয়াতে প্রচন্ড রক্তক্ষয়ী সিভিল (সরকারী বনাম বিরোধী দল) ওয়ার শুরু হলো। সবাই পালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা পরস্পর থেকে ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে। অনেক যুদ্ধহত এবং রেইপ ভিক্টিম শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিতসক নেই। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া Leymah Gbowee স্বেচ্ছােসবক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতাও তেমন ছিল না। রোগীদের নার্সিং করতে গিয়ে তার মনে হতে থাকে- কেন এই যুদ্ধ? কিসের জন্য এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ? ভাইয়ে-ভাইয়ে, বাপ-ভাইয়ে যুদ্ধ হবে কেন? যে করেই হোক এটা বন্ধ করতে হবে। এই যোদ্ধারা তো কারোর ভাই বা বাবা। তাই মেয়েরাই একমাত্র তাদেরকে যুদ্ধ থেকে সরে আসতে কনভিন্সড করতে পারেন। Leymah Gbowee তুমুল যুদ্ধের মধ্যেই জীবন বাজী রেখে যোদ্ধাদের স্ত্রী, মা, বোনদেরকে তার আইডিয়ার কথা বুঝালেন। আস্তে আস্তে তিনি মেয়েদেরকে ঐক্যবদ্ধ করলেন। অবশেষে তিনি এই মুভমেন্ট শুরু করেন যে যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত স্ত্রীরা তাদের হাজব্যন্ডদের সাথে যাতে শারীরিকভাবে মিলিত হতে বিরত থাকেন। অবশেষে যুদ্ধ বন্ধ হলো। অনবদ্য অবদানের জন্য Leymah Gbowee ২০১১ সালে শান্ত...

মায়ার বাঁধন

 কিছু মানুষ আপনাকে 'ধরে রাখবেও' না আবার একদম 'ছেড়েও দিবেনা!' আপনি ছেড়ে আসতে চাইলে তারা এমন কিছু করবে, যাতে আপনি থেকে যান কিন্তু আপনি থেকে গেলে আপনার কাছ থেকে দূরেই থাকবে। এই থাকা আর না থাকার মাঝামাঝি 'ঝুলে' থাকার ব্যাপার টা সত্যি ই খুব খারাপ। আপনি জানেন না সামনে কি হবে? মানুষ টা কে কিছু বলতেও পারবেন না কারন আপনার তার জন্য বড্ড বেশি মায়া! এই মায়া কাটানো ও যাচ্ছে না। আপনার সব ই ঠিকঠাক ভাবেই চলবে কিন্তু আপনি জানেন আপনি আসলে সুখে নাই, মানসিক অশান্তি আপনাকে ভেতরে ভেতরে শেষ করে দিচ্ছে। এইটা কাউকে বলা যায় না আসলে। যার জন্য এমন অবস্থা, তাকেও বলতে পারবেন না! দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলা ছাড়া কিছুই করার থাকে না আসলে কারন 'মায়া' তো বেশি আপনার!